গ্রীসে দীর্ঘমেয়াদী জীবন: স্থানীয়দের মতো বাঁচার গোপন সূত্রগুলি জানুন

webmaster

그리스에서 장기 체류하는 방법 - Here are three detailed image generation prompts in English, adhering to all the specified guideline...

আরেব্বাহ! কেমন আছেন সবাই? আমি আপনাদের প্রিয় ব্লগ ইন-ফ্লুয়েন্সার, চলে এসেছি নতুন একটা অসাধারণ পোস্ট নিয়ে!

জানেন তো, আজকাল সবার মনে একটাই প্রশ্ন, “কীভাবে বিদেশে স্থায়ীভাবে থাকা যায়?” বিশেষ করে, এমন একটা দেশ যেখানে ইতিহাস, সংস্কৃতি আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য একাকার হয়ে আছে। ভাবছেন কোন দেশের কথা বলছি?

হ্যাঁ, একদম ঠিক ধরেছেন, ভূমধ্যসাগরের রানী, আমাদের সবার স্বপ্নের দেশ গ্রীস! আমার মনে হয়, গ্রীসে দীর্ঘ সময় থাকার চিন্তাটা এখন শুধু স্বপ্ন নয়, বরং অনেক বাঙালির কাছে একটা বাস্তব পরিকল্পনা। কিছুদিন আগেও গ্রীসে থাকাটা বেশ কঠিন ছিল, কিন্তু এখন ডিজিটাল নোম্যাড ভিসা (Digital Nomad Visa) আর গোল্ডেন ভিসা (Golden Visa) প্রোগ্রামের মতো দারুণ কিছু সুযোগ এসেছে, যা আমাদের মতো মানুষদের জন্য দুয়ার খুলে দিয়েছে। আমি নিজে দেখেছি, আজকাল ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় গ্রীসে জীবনযাত্রার খরচও বেশ সাশ্রয়ী, যা দীর্ঘমেয়াদী থাকার জন্য একটা বড় সুবিধা। আর হ্যাঁ, এখানে কাজের সুযোগও কিন্তু বাড়ছে, বিশেষ করে কৃষি ও পর্যটন খাতে।অনেকেই ভাবেন, ভিসা পাওয়া মানেই সব ঝামেলা শেষ। কিন্তু, আসলে তা নয়। গ্রীসে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদী বসবাসের জন্য আরও অনেক খুঁটিনাটি বিষয় জানতে হয়। যেমন, সেখানে থাকার খরচ কেমন, কোথায় কাজ পাওয়া যাবে, বা রেসিডেন্স পারমিট কিভাবে নবায়ন করা যায় – এই সব কিছু নিয়েই আমাদের স্পষ্ট ধারণা থাকা দরকার। একটা কথা বলি, আমি যখন প্রথমবার গ্রীসের ব্যাপারে ঘাটাঘাটি শুরু করেছিলাম, তখন আমারও মনে হয়েছিল, ইশশ!

যদি কেউ সব তথ্য এক জায়গায় সহজভাবে বলে দিত! আর তাই, আজকের এই পোস্টটা আমি তৈরি করেছি ঠিক সেই অভাবটা পূরণ করার জন্য।এই সুযোগগুলো কাজে লাগিয়ে কীভাবে আপনিও গ্রীসে আপনার দীর্ঘমেয়াদী স্বপ্ন পূরণ করতে পারেন, তা নিয়েই আজ আমি বিস্তারিত আলোচনা করব। নিচে আমরা গ্রীসে দীর্ঘ সময় থাকার সব বিস্তারিত তথ্য, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, এবং গুরুত্বপূর্ণ সব টিপস সম্পর্কে জানবো, যা আপনাকে সফলভাবে গ্রীসে থিতু হতে সাহায্য করবে। চলুন, বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক!

ভিসা এবং রেসিডেন্স পারমিটের খুঁটিনাটি

그리스에서 장기 체류하는 방법 - Here are three detailed image generation prompts in English, adhering to all the specified guideline...

সঠিক ভিসা নির্বাচন: আপনার প্রথম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ

গ্রীসে স্থায়ীভাবে থাকার স্বপ্ন দেখলে প্রথমেই যে প্রশ্নটা মাথায় আসে, সেটা হলো ‘কোন ভিসা আমার জন্য সবচেয়ে ভালো হবে?’ কারণ, ভিসার ধরন আপনার গ্রীসের অভিজ্ঞতার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করবে। আমি নিজে দেখেছি, অনেকেই এই ধাপেই ভুল করে ফেলেন, আর পরে গিয়ে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়। গ্রীসে মূলত কয়েক ধরনের ভিসা পাওয়া যায় যা দীর্ঘমেয়াদী থাকার জন্য উপযুক্ত। যেমন, স্টুডেন্ট ভিসা, ওয়ার্ক ভিসা, ফ্যামিলি রিইউনিয়ন ভিসা, আর ইদানিং খুব জনপ্রিয় হয়ে ওঠা ডিজিটাল নোম্যাড ভিসা এবং অবশ্যই গোল্ডেন ভিসা। আপনার পরিস্থিতি, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা এবং বিনিয়োগের সক্ষমতা – এই সব কিছুর উপর নির্ভর করে আপনাকে সঠিক ভিসা বেছে নিতে হবে। মনে রাখবেন, একেক ভিসার জন্য কাগজপত্র এবং আবেদন প্রক্রিয়া কিন্তু একেকরকম। তাই, আবেদন করার আগে ভালোভাবে গবেষণা করে নিন। অনেক সময় দেখা যায়, কিছু ভিসা আপনাকে দ্রুত রেসিডেন্স পারমিট পেতে সাহায্য করে, আবার কিছু ক্ষেত্রে কিছুটা সময় লাগে। আমার মনে হয়, এই ব্যাপারে একজন অভিজ্ঞ অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ, আইনি বিষয়গুলো বেশ জটিল হতে পারে এবং ভুল তথ্য দিলে আপনার আবেদন বাতিলও হতে পারে। ব্যক্তিগতভাবে, আমি যখন প্রথম ইউরোপে দীর্ঘমেয়াদী বসবাসের কথা ভাবছিলাম, তখন ভিসার এই জটিলতা আমাকে বেশ চিন্তায় ফেলে দিয়েছিল। তাই আপনাদের বলব, এই ব্যাপারে তাড়াহুড়ো করবেন না।

রেসিডেন্স পারমিট: দীর্ঘমেয়াদী থাকার চাবিকাঠি

ভিসা পাওয়া মানেই যে গ্রীসে আপনার দীর্ঘমেয়াদী থাকার ব্যবস্থা পাকাপাকি হয়ে গেল, ব্যাপারটা কিন্তু মোটেই এমন নয়। ভিসা মূলত আপনাকে গ্রীসে প্রবেশের অনুমতি দেয়। আসল খেলাটা শুরু হয় রেসিডেন্স পারমিট পাওয়ার পর। রেসিডেন্স পারমিট হলো গ্রীসে আপনার বৈধভাবে থাকার এবং বিভিন্ন সুবিধা ভোগ করার অনুমতিপত্র। এর মাধ্যমেই আপনি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবেন, কাজের অনুমতি পাবেন, স্বাস্থ্যসেবার সুবিধা নিতে পারবেন এবং আরও অনেক কিছু। সাধারণত, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই আপনাকে রেসিডেন্স পারমিটের জন্য আবেদন করতে হয়। এই প্রক্রিয়াটা বেশ লম্বা হতে পারে এবং প্রচুর কাগজপত্র জোগাড় করতে হয়। যেমন, আপনার পাসপোর্টের কপি, ভিসার কপি, ঠিকানার প্রমাণপত্র, আর্থিক সচ্ছলতার প্রমাণপত্র, ক্রিমিনাল রেকর্ড চেক, স্বাস্থ্য পরীক্ষার সার্টিফিকেট – এমন আরও অনেক কিছু। আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, রেসিডেন্স পারমিটের আবেদন করার সময় প্রতিটি ডকুমেন্ট যেন নির্ভুল থাকে, সেটা নিশ্চিত করাটা খুবই জরুরি। সামান্য ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য আপনার আবেদন বিলম্বিত করতে পারে অথবা বাতিল করে দিতে পারে। বিশেষ করে, গ্রীক ভাষায় ডকুমেন্ট অনুবাদ করানো এবং সেগুলো নোটারাইজড করাটা অনেক সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। তাই, পর্যাপ্ত সময় নিয়ে এবং ধৈর্য ধরে এই কাজগুলো করতে হয়। মনে রাখবেন, একটি বৈধ রেসিডেন্স পারমিট ছাড়া গ্রীসে আপনার থাকাটা যেকোনো সময় ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

গ্রীসে জীবনযাত্রার খরচ: বাজেট এবং বাস্তবতা

Advertisement

বাসা ভাড়া ও দৈনন্দিন খরচ: একটি বিস্তারিত চিত্র

গ্রীসে থাকার পরিকল্পনা করার আগে সেখানকার জীবনযাত্রার খরচ সম্পর্কে একটা পরিষ্কার ধারণা থাকাটা খুবই জরুরি। আমার মনে হয়, ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় গ্রীসে জীবনযাত্রার খরচ এখনও বেশ সাশ্রয়ী, বিশেষ করে যখন আমরা এথেন্স বা থেসালোনিকির মতো বড় শহরগুলোর বাইরে ছোট শহর বা দ্বীপগুলোতে দেখি। তবে, এথেন্স বা জনপ্রিয় পর্যটন এলাকাগুলোতে ভাড়া এবং অন্যান্য খরচ তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে। একটি এক বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া শহরের কেন্দ্রে ৫০০-৭০০ ইউরো হতে পারে, আর শহরের বাইরে ৩০০-৫০০ ইউরোতে পাওয়া সম্ভব। ইলেক্ট্রিসিটি, পানি, ইন্টারনেট এবং গ্যাসের বিল বাবদ মাসে আরও ১০০-১৫০ ইউরো ধরে রাখতে পারেন। খাদ্য খরচ আপনার খাদ্যাভ্যাসের উপর নির্ভর করে, তবে নিজে রান্না করলে মাসে ২০০-৩০০ ইউরোতে স্বাচ্ছন্দ্যে চলতে পারবেন। পাবলিক ট্রান্সপোর্ট বেশ ভালো এবং সাশ্রয়ী। আমি দেখেছি, অনেকে প্রথম দিকে এই খরচগুলো নিয়ে তেমন একটা ভাবনা-চিন্তা করেন না, যার ফলে পরে গিয়ে তাদের বাজেট ম্যানেজ করা কঠিন হয়ে পড়ে। আমার পরামর্শ হলো, প্রথম কয়েক মাসের জন্য একটা বিস্তারিত বাজেট তৈরি করে নিন এবং সে অনুযায়ী আপনার সঞ্চয় হিসাব করুন। অপ্রত্যাশিত খরচ সবসময়ই আসে, তাই সবকিছুর জন্য প্রস্তুত থাকা বুদ্ধিমানের কাজ।

সঞ্চয় এবং খরচ কমানোর উপায়

গ্রীসে দীর্ঘমেয়াদী থাকার জন্য শুধু আয় করলেই হবে না, সঞ্চয়ের দিকেও নজর দিতে হবে। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বলে, স্মার্টলি খরচ করলে গ্রীসে ভালোভাবেই টিকে থাকা যায়। উদাহরণস্বরূপ, স্থানীয় বাজার বা ‘লাইকি অ্যাগোরা’ (Laiki Agora) থেকে কেনাকাটা করলে সুপারমার্কেট থেকে অনেক কম দামে তাজা ফলমূল, শাকসবজি এবং মাছ কেনা যায়। রেস্তোরাঁয় নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস বাদ দিয়ে বাড়িতে রান্না করলে খাবারের খরচ অনেক কমে আসে। পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করাটা গাড়ির পেছনে খরচ করার চেয়ে অনেক বেশি সাশ্রয়ী। আমি নিজে সাইকেল চালিয়ে অনেক জায়গায় গিয়েছি, যা শরীরচর্চার পাশাপাশি খরচ কমাতেও সাহায্য করেছে। বিনোদনের ক্ষেত্রে, গ্রীসে অনেক ঐতিহাসিক স্থান এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আছে যা বিনামূল্যে বা নামমাত্র মূল্যে উপভোগ করা যায়। যেমন, এথেন্সের ন্যাশনাল গার্ডেন বা বিভিন্ন সৈকতে যাওয়া। এছাড়াও, ইউরোপের অনেক দেশের মতো গ্রীসেও অফ-সিজনে অনেক কিছুতে ছাড় পাওয়া যায়, যা কেনাকাটার সময় কাজে লাগাতে পারেন। আমার মনে হয়, এই ছোট ছোট টিপসগুলো মেনে চললে আপনি গ্রীসে বেশ ভালো পরিমাণ অর্থ সঞ্চয় করতে পারবেন এবং আপনার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবেন।

কাজের সুযোগ এবং ব্যবসা করার মন্ত্র

কোন খাতে কাজের সম্ভাবনা বেশি?

গ্রীসে দীর্ঘমেয়াদী বসবাসের পরিকল্পনা করলে কাজের সুযোগ সম্পর্কে জানাটা খুবই জরুরি। একটা কথা বলি, গ্রীসে বর্তমানে কিছু নির্দিষ্ট খাতে কাজের চাহিদা বেশ বাড়ছে, যা আমাদের মতো বিদেশিদের জন্য আশার আলো দেখাচ্ছে। পর্যটন খাত গ্রীসের অর্থনীতির মূল ভিত্তি, তাই হোটেল, রেস্তোরাঁ, ট্যুরিস্ট গাইড বা অন্যান্য সেবা খাতে সবসময়ই কাজের সুযোগ থাকে, বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে। তবে এই কাজগুলো সাধারণত সিজনাল হয়। কৃষি খাতেও গ্রীসে বেশ ভালো কাজের সুযোগ আছে, বিশেষ করে ফসল তোলা বা কৃষিজাত পণ্য প্রক্রিয়াকরণে। ডিজিটাল নোম্যাড ভিসার কারণে এখন অনেকেই দূর থেকে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন, যার ফলে টেক বা ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরেও গ্রীসে বসে কাজ করার একটা প্রবণতা তৈরি হয়েছে। আমি নিজে দেখেছি, ইংরেজি ভাষাভাষী কর্মজীবীদের জন্য কিছু আন্তর্জাতিক কোম্পানিতেও সুযোগ থাকে। নির্মাণ খাতেও দক্ষ শ্রমিকের চাহিদা রয়েছে। তবে, গ্রীক ভাষা জানা থাকলে আপনার কাজের সুযোগ অনেকগুণ বেড়ে যাবে। কারণ, স্থানীয়দের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করা এবং স্থানীয় পরিবেশে কাজ করাটা তখন অনেক সহজ হয়ে যায়। আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, নেটওয়ার্কিং করাটা গ্রীসে কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক বড় ভূমিকা রাখে। স্থানীয় কমিউনিটির সাথে মিশে গেলে নতুন সুযোগের খবর পাওয়া যায়।

নিজের ব্যবসা শুরু করার সুবিধা-অসুবিধা

গ্রীসে শুধু কাজ খোঁজা নয়, অনেকে নিজের ব্যবসা শুরু করার কথাও ভাবেন। আমি মনে করি, এটা একটা দারুণ আইডিয়া, বিশেষ করে যদি আপনার কাছে একটি ভালো বিজনেস প্ল্যান থাকে। গ্রীসে ব্যবসা শুরু করার কিছু সুবিধা আছে। যেমন, পর্যটন খাতের বিশাল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে ছোট হোটেল, ক্যাফে বা ট্যুর এজেন্সি খোলা যেতে পারে। এখানকার সুন্দর আবহাওয়া এবং জীবনযাত্রার সহজলভ্যতা অনেক উদ্যোক্তাকে আকর্ষণ করে। তবে, চ্যালেঞ্জগুলোও মাথায় রাখতে হবে। গ্রীসে ব্যবসা শুরু করার প্রক্রিয়া কিছুটা আমলাতান্ত্রিক এবং সময়সাপেক্ষ হতে পারে। ট্যাক্স সিস্টেম এবং স্থানীয় আইন-কানুন সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকলে সমস্যায় পড়তে হতে পারে। আমার মনে হয়, ব্যবসা শুরু করার আগে স্থানীয় একজন পরামর্শকের সাহায্য নেওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ। ইদানিং গ্রীস সরকার বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য কিছু প্রণোদনা দিচ্ছে, বিশেষ করে গোল্ডেন ভিসার মতো প্রোগ্রামগুলোর মাধ্যমে। ডিজিটাল নোম্যাডদের জন্যও স্থানীয় ইকোসিস্টেম ধীরে ধীরে উন্নত হচ্ছে। তবে, আপনার ব্যবসার পরিকল্পনা কতটা বাস্তবসম্মত এবং গ্রীক বাজারের জন্য কতটা উপযুক্ত, সেটা ভালোভাবে যাচাই করে নিতে হবে। আমি যখন প্রথম আমার ব্লগিং যাত্রা শুরু করেছিলাম, তখন অনেক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিলাম। তাই আপনাদের বলব, ধৈর্য, অধ্যবসায় আর সঠিক পরিকল্পনা – এই তিনটে জিনিস থাকলে গ্রীসে ব্যবসা করাটা অসম্ভব কিছু নয়।

স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং জীবনমানের গুরুত্ব

Advertisement

গ্রীসের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা: আপনার সুস্থতা নিশ্চিত করুন

গ্রীসে দীর্ঘমেয়াদী বসবাসের জন্য এখানকার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা সম্পর্কে জানাটা অত্যন্ত জরুরি। আমি নিজে দেখেছি, সুস্থ থাকাটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। গ্রীসে মূলত একটি পাবলিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা (ESY) এবং একটি প্রাইভেট স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা উভয়ই বিদ্যমান। আপনি যদি গ্রীসে বৈধভাবে কাজ করেন বা স্ব-কর্মসংস্থান করেন, তাহলে আপনি সাধারণত পাবলিক স্বাস্থ্য বীমার আওতায় আসবেন। এর ফলে আপনি পাবলিক হাসপাতাল এবং ক্লিনিকগুলোতে বিনামূল্যে বা নামমাত্র মূল্যে চিকিৎসা সেবা নিতে পারবেন। তবে, পাবলিক সিস্টেমের কিছু সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে, যেমন অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেতে দীর্ঘ সময় লাগা। এই কারণে অনেকে প্রাইভেট স্বাস্থ্য বীমাও করিয়ে থাকেন, যা তাদের প্রাইভেট ক্লিনিক এবং হাসপাতালগুলোতে দ্রুত এবং উন্নত সেবা পেতে সাহায্য করে। প্রাইভেট বীমার খরচ আপনার বয়স এবং কভারেজের উপর নির্ভর করে। আমার ব্যক্তিগত পরামর্শ হলো, গ্রীসে আসার আগে আপনার স্বাস্থ্য বীমার ব্যবস্থা সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিন। কারণ, জরুরি অবস্থার সময় সঠিক বীমা কভারেজ থাকাটা মানসিক শান্তি দিতে পারে। বিশেষ করে, আমাদের দেশের আবহাওয়া থেকে এসে হঠাৎ করে এখানকার পরিবেশে মানিয়ে নিতে কিছু ছোটখাটো শারীরিক সমস্যা হতেই পারে, তাই সবকিছুর জন্য প্রস্তুত থাকাটা বুদ্ধিমানের কাজ।

আপনার সন্তানদের জন্য শিক্ষা ব্যবস্থা

যদি আপনার পরিবার সহ গ্রীসে বসবাসের পরিকল্পনা থাকে, তাহলে সন্তানদের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আপনার অবশ্যই চিন্তাভাবনা থাকবে। আমি নিজে দেখেছি, বাবা-মায়েরা তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কতটা ভাবেন। গ্রীসে পাবলিক এবং প্রাইভেট উভয় ধরনের স্কুলই আছে। পাবলিক স্কুলগুলো সাধারণত বিনামূল্যে শিক্ষা প্রদান করে এবং গ্রীক ভাষায় পাঠদান করা হয়। আপনার সন্তানরা যদি গ্রীক ভাষা না জানে, তাহলে প্রথম দিকে তাদের মানিয়ে নিতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। তবে, অনেক স্কুলেই বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সহায়তা প্রোগ্রাম থাকে। প্রাইভেট স্কুলগুলো সাধারণত আন্তর্জাতিক কারিকুলাম অনুসরণ করে এবং ইংরেজি বা অন্যান্য ভাষায় পাঠদান করে। এই স্কুলগুলোতে টিউশন ফি বেশ ভালো পরিমাণে লাগে, তবে শিক্ষার মান সাধারণত অনেক উন্নত হয়। আমি দেখেছি, অনেক বিদেশি পরিবার তাদের সন্তানদের আন্তর্জাতিক স্কুলে ভর্তি করায়, বিশেষ করে যারা দ্রুত ভাষার বাধা অতিক্রম করতে চান। আপনার সন্তানের বয়স এবং আপনার বাজেটের উপর নির্ভর করে আপনাকে সঠিক স্কুল বেছে নিতে হবে। গ্রীসের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ইউরোপের মধ্যে বেশ নামকরা এবং উচ্চ শিক্ষার জন্য একটি ভালো বিকল্প হতে পারে। আমার মনে হয়, পরিবারের সাথে গ্রীসে আসার আগে এই বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা করাটা আপনার জন্য অনেক উপকারী হবে।

ডিজিটাল নোম্যাড এবং গোল্ডেন ভিসা: আপনার জন্য কোনটা সেরা?

그리스에서 장기 체류하는 방법 - Prompt 1: Serene Digital Nomad Life in Greece**

ডিজিটাল নোম্যাড ভিসা: দূর থেকে কাজ করার স্বাধীনতা

আরেব্বাহ! এখন আসি একটা দারুণ সুযোগের কথায়, যেটা এখন অনেকের কাছেই স্বপ্নের মতো লাগছে – ডিজিটাল নোম্যাড ভিসা! আমি নিজে দেখেছি, কীভাবে এই ভিসা আমাদের মতো মানুষদের জন্য ইউরোপের দুয়ার খুলে দিয়েছে। গ্রীস সরকার সম্প্রতি ডিজিটাল নোম্যাডদের জন্য বিশেষ ভিসা চালু করেছে, যা দূর থেকে কাজ করা পেশাজীবীদের জন্য গ্রীসে বসবাস করার সুযোগ করে দিয়েছে। এর মানে হলো, আপনি যদি বিদেশি কোনো কোম্পানির হয়ে অনলাইনে কাজ করেন, তাহলে আপনি গ্রীসে এসে বৈধভাবে থাকতে পারবেন। এই ভিসার প্রধান আকর্ষণ হলো, আপনি গ্রীসের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সুন্দর আবহাওয়া আর সাশ্রয়ী জীবনযাত্রার খরচ উপভোগ করতে পারবেন, আর একই সাথে আপনার বিদেশি ইনকামের উপর ট্যাক্সের সুবিধাও পেতে পারেন। আমি যখন প্রথম এই ভিসার কথা শুনেছিলাম, তখন আমার মনে হয়েছিল, ইশশ!

যদি আমার মতো সবাই এই সুযোগটা নিতে পারত! সাধারণত, এই ভিসার জন্য আপনার মাসিক আয়ের একটি নির্দিষ্ট সীমা (বর্তমানে প্রায় ৩,৫০০ ইউরো) পূরণ করতে হয় এবং আপনার কাজের ধরন অনলাইনে হতে হবে। এর জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ এবং আবেদন প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে সহজ। আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, যারা নিজেদের পেশায় স্বাধীনতা চান এবং বিভিন্ন দেশ ঘুরে দেখতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য ডিজিটাল নোম্যাড ভিসা একটি অসাধারণ সুযোগ। গ্রীসের সুন্দর দ্বীপগুলোতে বসে কাজ করার অভিজ্ঞতা সত্যিই অতুলনীয়!

গোল্ডেন ভিসা: বিনিয়োগের মাধ্যমে রেসিডেন্সি

যারা গ্রীসে বিনিয়োগের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে চান, তাদের জন্য গোল্ডেন ভিসা প্রোগ্রামটি একটি অসাধারণ সুযোগ। আমি দেখেছি, এই প্রোগ্রামটি কতটা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, বিশেষ করে ইউরোপের বাইরে থেকে আসা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে। গ্রীসের গোল্ডেন ভিসা হলো একটি রেসিডেন্সি-বাই-ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম, যার মাধ্যমে আপনি গ্রীসে নির্দিষ্ট পরিমাণ বিনিয়োগের বিনিময়ে এবং আপনার পরিবার সহ গ্রীসের রেসিডেন্সি পারমিট পেতে পারেন। সাধারণত, রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগ (বর্তমানে কমপক্ষে ২,৫০,০০০ ইউরো বা কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ৫,০০,০০০ ইউরো) সবচেয়ে জনপ্রিয় উপায়। এছাড়াও, সরকারি বন্ড বা অন্যান্য ব্যবসায় বিনিয়োগ করেও গোল্ডেন ভিসার জন্য আবেদন করা যায়। এই ভিসার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এর মাধ্যমে আপনি এবং আপনার পরিবারের সদস্যরা (যেমন স্বামী/স্ত্রী, ১৮ বছরের কম বয়সী সন্তান এবং কিছু ক্ষেত্রে নির্ভরশীল বাবা-মা) পুরো শেনজেন এলাকায় ভিসামুক্ত ভ্রমণের সুবিধা পাবেন। আমার মনে হয়, যারা ইউরোপে একটি নিরাপদ আশ্রয় এবং বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজছেন, তাদের জন্য গোল্ডেন ভিসা একটি উপযুক্ত বিকল্প হতে পারে। তবে, এই বিনিয়োগের পরিমাণ বেশ বড় হওয়ায়, আমি সবসময় একজন বিশ্বস্ত আইনি এবং আর্থিক উপদেষ্টার সাহায্য নিতে উৎসাহিত করি। কারণ, বিনিয়োগের প্রতিটি ধাপে সঠিক পরামর্শ আপনার জন্য দীর্ঘমেয়াদী সাফল্য বয়ে আনবে।

সংস্কৃতি, ভাষা এবং গ্রীক জীবনধারার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া

Advertisement

ভাষা শেখার গুরুত্ব এবং স্থানীয়দের সাথে মিশে যাওয়া

গ্রীসে দীর্ঘমেয়াদী বসবাসের জন্য গ্রীক ভাষা শেখাটা কেবল একটি বাড়তি সুবিধা নয়, বরং আমি বলবো এটা একটা অত্যাবশ্যকীয় বিষয়। আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, আপনি যদি গ্রীক ভাষা না জানেন, তাহলে অনেক সময়ই স্থানীয়দের সাথে যোগাযোগ করতে সমস্যা হতে পারে। হ্যাঁ, পর্যটন এলাকায় বা বড় শহরগুলোতে অনেকেই ইংরেজি বোঝেন, কিন্তু দৈনন্দিন জীবনে, বাজার-ঘাটে বা স্থানীয়দের সাথে মিশে যেতে চাইলে গ্রীক ভাষা জানাটা আপনাকে এক অন্য মাত্রার অভিজ্ঞতা দেবে। গ্রীক ভাষা শেখার মাধ্যমে আপনি তাদের সংস্কৃতিকে আরও ভালোভাবে বুঝতে পারবেন, স্থানীয়দের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারবেন এবং গ্রীসের জীবনযাত্রার গভীরে প্রবেশ করতে পারবেন। আমি দেখেছি, যখন আমি দু’একটা গ্রীক শব্দ বলতে পারতাম, তখন স্থানীয়দের মুখে একটা আলাদা হাসি দেখতে পেতাম। এতে বোঝা যায়, তারা কতটা খুশি হয় যখন একজন বিদেশি তাদের ভাষা শেখার চেষ্টা করে। অনেক অনলাইন রিসোর্স, ভাষা শিক্ষার অ্যাপস এবং স্থানীয় ভাষা স্কুল রয়েছে যেখানে আপনি গ্রীক ভাষা শিখতে পারবেন। আমার মনে হয়, ভাষা শেখাটা শুধুমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটা হলো স্থানীয় সংস্কৃতির সাথে একাত্ম হওয়ার একটা সেতুবন্ধন।

গ্রীক উৎসব এবং দৈনন্দিন জীবন

গ্রীসের জীবনধারা এবং সংস্কৃতি সত্যিই মন মুগ্ধ করা। আমার মনে হয়, গ্রীসে থাকার সময় এখানকার উৎসবগুলোতে অংশ নেওয়াটা আপনাকে এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা দেবে। সারা বছর জুড়েই গ্রীসে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসব পালিত হয়, যা তাদের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরে। ইস্টার (Pascha) হলো গ্রীসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎসব, যা অত্যন্ত জাঁকজমকের সাথে পালিত হয়। এছাড়াও, গ্রীষ্মকালে বিভিন্ন স্থানীয় মেলা, সঙ্গীতানুষ্ঠান এবং নৃত্যানুষ্ঠান আয়োজিত হয়, যা গ্রীসের আনন্দময় জীবনধারারই প্রতিচ্ছবি। আমি যখন প্রথম গ্রীসে এসেছিলাম, তখন এখানকার “সিস্তা” (Sista) বা দুপুরের বিশ্রাম এবং “ফিলোক্সেনিয়া” (Philoxenia) বা অতিথিপরায়ণতা আমাকে মুগ্ধ করেছিল। গ্রীকরা খুবই অতিথিপরায়ণ এবং পরিবারকেন্দ্রিক। আমি দেখেছি, তারা তাদের অবসর সময়টা পরিবার এবং বন্ধুদের সাথে কাটাতে খুব পছন্দ করে। ক্যাফেতে বসে ঘন্টার পর ঘন্টা কফি খাওয়া বা সন্ধ্যায় “ভাডিয়া” (Vradia) তে একসাথে ডিনার করা তাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। এই সংস্কৃতি এবং জীবনধারার সাথে মানিয়ে নেওয়াটা হয়তো প্রথম দিকে কিছুটা চ্যালেঞ্জিং মনে হতে পারে, কিন্তু একবার মানিয়ে নিতে পারলে গ্রীসের মতো জীবন আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না।

আইনি দিক এবং রেসিডেন্স পারমিট নবায়নের প্রক্রিয়া

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং আইনি সহায়তা

গ্রীসে আপনার দীর্ঘমেয়াদী বসবাসের যাত্রাটা মসৃণ করতে চাইলে আইনি দিকগুলো সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকাটা খুবই জরুরি। বিশেষ করে, রেসিডেন্স পারমিট নবায়নের সময় প্রচুর কাগজপত্র এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। আমি যখন প্রথম এই ব্যাপারে ঘাটাঘাটি শুরু করেছিলাম, তখন আমার মনে হয়েছিল, ইশশ!

যদি কেউ সব তথ্য এক জায়গায় সহজভাবে বলে দিত! নবায়নের জন্য আপনার বর্তমান রেসিডেন্স পারমিট, পাসপোর্টের বৈধ কপি, আর্থিক সচ্ছলতার প্রমাণ (যেমন ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা আয়ের সার্টিফিকেট), ঠিকানার প্রমাণপত্র, ট্যাক্স ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট এবং একটি স্বাস্থ্য বীমা প্রমাণপত্র সহ আরও অনেক কিছু প্রয়োজন হতে পারে। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বলে, এই ডকুমেন্টগুলো সংগ্রহ করতে অনেক সময় লেগে যেতে পারে, তাই মেয়াদ শেষ হওয়ার অনেক আগেই প্রস্তুতি শুরু করা উচিত। এক্ষেত্রে, একজন অভিজ্ঞ অভিবাসন আইনজীবীর সাহায্য নেওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ। তারা আপনাকে সঠিক তথ্য দিতে পারবেন, কাগজপত্র প্রস্তুত করতে সহায়তা করবেন এবং আবেদন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে আপনার পাশে থাকবেন। ভুল ডকুমেন্টেশন বা অসম্পূর্ণ তথ্য আপনার নবায়নের প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করতে পারে বা এমনকি বাতিলও করে দিতে পারে।

নবায়নের সময়সীমা ও সতর্কতা

রেসিডেন্স পারমিট নবায়নের ক্ষেত্রে সময়সীমা মেনে চলাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গ্রীসে রেসিডেন্স পারমিট সাধারণত প্রথমবার এক বা দুই বছরের জন্য দেওয়া হয়, এবং তারপর নবায়ন করা যায়। আমি নিজে দেখেছি, অনেকেই সময়সীমা ভুলে যান বা গুরুত্ব দেন না, যার ফলে তাদের অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়। আপনার রেসিডেন্স পারমিটের মেয়াদ শেষ হওয়ার কমপক্ষে ২-৩ মাস আগে নবায়নের জন্য আবেদন করা উচিত। কারণ, আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে এবং নতুন পারমিট হাতে পেতে কিছুটা সময় লাগে। নবায়নের সময় আপনার গ্রীসে থাকার উদ্দেশ্য এবং শর্ত পূরণ হচ্ছে কিনা, সেদিকেও নজর রাখা হয়। উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি স্টুডেন্ট ভিসায় এসে থাকেন, তাহলে আপনার নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার প্রমাণ দিতে হবে। ওয়ার্ক পারমিট থাকলে কাজের ধারাবাহিকতা দেখাতে হবে। আমার পরামর্শ হলো, আপনার রেসিডেন্স পারমিটের মেয়াদ এবং নবায়নের সময়সীমা একটি ক্যালেন্ডারে নোট করে রাখুন এবং নিয়মিত চেক করুন। কোনো কারণে যদি আপনি সময়মতো আবেদন করতে না পারেন, তাহলে আপনাকে জরিমানা বা অন্যান্য আইনি জটিলতার সম্মুখীন হতে হতে পারে। তাই, প্রতিটি ধাপে সতর্ক থাকা এবং সময়সীমা মেনে চলা আপনার গ্রীসে দীর্ঘমেয়াদী বসবাসের জন্য অপরিহার্য।

বৈশিষ্ট্য ডিজিটাল নোম্যাড ভিসা গোল্ডেন ভিসা
উদ্দেশ্য বিদেশী নিয়োগকর্তার জন্য দূর থেকে কাজ করা গ্রীসে বিনিয়োগের মাধ্যমে রেসিডেন্সি অর্জন
আয়ের প্রয়োজনীয়তা মাসিক ন্যূনতম আয় (সাধারণত €3,500) আয়ের নির্দিষ্ট সীমা নেই, বিনিয়োগ মূলধন প্রয়োজন
বিনিয়োগ বিনিয়োগের প্রয়োজন নেই রিয়েল এস্টেট বা অন্যান্য খাতে বিনিয়োগ (ন্যূনতম €2,50,000)
শেনজেন অ্যাক্সেস হ্যাঁ হ্যাঁ
স্থায়ী রেসিডেন্সি নির্দিষ্ট শর্ত পূরণের পর সম্ভব নির্দিষ্ট সময় পর স্থায়ী রেসিডেন্সি এবং নাগরিকত্বের পথ
কার জন্য উপযুক্ত ফ্রিল্যান্সার, রিমোট ওয়ার্কার, টেক পেশাজীবী বিনিয়োগকারী, ধনী ব্যক্তি এবং তাদের পরিবার

লেখাটি শেষ করছি

গ্রীসে স্থায়ীভাবে বসবাসের এই যে পুরো যাত্রা, তা কিন্তু শুধু কাগজপত্র বা নিয়মকানুনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আমার বিশ্বাস, প্রতিটি তথ্য আপনাদের গ্রীসের স্বপ্নের পথে একধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, সঠিক পরিকল্পনা, একটু ধৈর্য আর এখানকার সংস্কৃতিকে ভালোবাসতে পারলে গ্রীসের জীবন আপনাকে মুগ্ধ করবেই। মনে রাখবেন, প্রতিটি চ্যালেঞ্জই নতুন কিছু শেখার সুযোগ নিয়ে আসে।

এই ব্লগে আমি চেষ্টা করেছি গ্রীসের খুঁটিনাটি বিষয়গুলো আপনাদের সামনে তুলে ধরতে। আশা করি, আমার এই দীর্ঘ আলোচনা আপনাদের গ্রীসে বসবাস বা বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে অনেকটা সহজ করে দেবে। আপনাদের গ্রীসের নতুন অধ্যায় যেন সুখকর হয়, সেই কামনাই রইল!

Advertisement

কিছু দরকারি তথ্য যা জেনে রাখা ভালো

১. গ্রীক ভাষা শেখার চেষ্টা করুন: স্থানীয়দের সাথে মিশে যেতে এবং দৈনন্দিন জীবন সহজ করতে গ্রীক ভাষার কিছু প্রাথমিক জ্ঞান থাকাটা খুবই জরুরি।

২. একটি বিস্তারিত বাজেট তৈরি করুন: গ্রীসে আসার আগেই বাসা ভাড়া, খাবার, যাতায়াত ও অন্যান্য খরচের একটি স্পষ্ট ধারণা রাখা এবং সে অনুযায়ী বাজেট করা বুদ্ধিমানের কাজ।

৩. অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিন: ভিসা বা রেসিডেন্স পারমিট সংক্রান্ত জটিল আইনি প্রক্রিয়ার জন্য একজন অভিজ্ঞ অভিবাসন আইনজীবীর সাহায্য নেওয়া আপনাকে ভুলত্রুটি থেকে বাঁচাবে।

৪. স্থানীয় বাজার থেকে কেনাকাটা করুন: সুপারমার্কেটের চেয়ে স্থানীয় লায়িকি অ্যাগোরা (Laiki Agora) থেকে কেনাকাটা করলে অনেক সাশ্রয়ী মূল্যে তাজা পণ্য পাবেন।

৫. স্থানীয় সংস্কৃতিতে মিশে যান: গ্রীসের উৎসব, রীতিনীতি এবং অতিথিপরায়ণতাকে আপন করে নিলে আপনার নতুন জীবন অনেক বেশি আনন্দময় হবে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এক নজরে

গ্রীসে আপনার দীর্ঘমেয়াদী বসবাসের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সঠিক ভিসা নির্বাচন, রেসিডেন্স পারমিটের নিয়মকানুন মেনে চলা এবং আর্থিক পরিকল্পনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানকার জীবনযাত্রার খরচ ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় সাশ্রয়ী হলেও, একটি সুচিন্তিত বাজেট অপরিহার্য। কাজের সুযোগ খুঁজতে বা ব্যবসা শুরু করতে হলে স্থানীয় চাহিদা এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন। সর্বোপরি, গ্রীক সংস্কৃতি ও ভাষার সাথে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া আপনার অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করবে। আইনি পরামর্শ এবং সময়মতো কাগজপত্র নবায়ন করা আপনার গ্রীসের যাত্রাকে মসৃণ রাখবে।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) 📖

আরেব্বাহ! কেমন আছেন সবাই? আমি আপনাদের প্রিয় ব্লগ ইন-ফ্লুয়েন্সার, চলে এসেছি নতুন একটা অসাধারণ পোস্ট নিয়ে!

জানেন তো, আজকাল সবার মনে একটাই প্রশ্ন, “কীভাবে বিদেশে স্থায়ীভাবে থাকা যায়?” বিশেষ করে, এমন একটা দেশ যেখানে ইতিহাস, সংস্কৃতি আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য একাকার হয়ে আছে। ভাবছেন কোন দেশের কথা বলছি?

হ্যাঁ, একদম ঠিক ধরেছেন, ভূমধ্যসাগরের রানী, আমাদের সবার স্বপ্নের দেশ গ্রীস! আমার মনে হয়, গ্রীসে দীর্ঘ সময় থাকার চিন্তাটা এখন শুধু স্বপ্ন নয়, বরং অনেক বাঙালির কাছে একটা বাস্তব পরিকল্পনা। কিছুদিন আগেও গ্রীসে থাকাটা বেশ কঠিন ছিল, কিন্তু এখন ডিজিটাল নোম্যাড ভিসা (Digital Nomad Visa) আর গোল্ডেন ভিসা (Golden Visa) প্রোগ্রামের মতো দারুণ কিছু সুযোগ এসেছে, যা আমাদের মতো মানুষদের জন্য দুয়ার খুলে দিয়েছে। আমি নিজে দেখেছি, আজকাল ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় গ্রীসে জীবনযাত্রার খরচও বেশ সাশ্রয়ী, যা দীর্ঘমেয়াদী থাকার জন্য একটা বড় সুবিধা। আর হ্যাঁ, এখানে কাজের সুযোগও কিন্তু বাড়ছে, বিশেষ করে কৃষি ও পর্যটন খাতে।অনেকেই ভাবেন, ভিসা পাওয়া মানেই সব ঝামেলা শেষ। কিন্তু, আসলে তা নয়। গ্রীসে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদী বসবাসের জন্য আরও অনেক খুঁটিনাটি বিষয় জানতে হয়। যেমন, সেখানে থাকার খরচ কেমন, কোথায় কাজ পাওয়া যাবে, বা রেসিডেন্স পারমিট কিভাবে নবায়ন করা যায় – এই সব কিছু নিয়েই আমাদের স্পষ্ট ধারণা থাকা দরকার। একটা কথা বলি, আমি যখন প্রথমবার গ্রীসের ব্যাপারে ঘাটাঘাটি শুরু করেছিলাম, তখন আমারও মনে হয়েছিল, ইশশ!

যদি কেউ সব তথ্য এক জায়গায় সহজভাবে বলে দিত! আর তাই, আজকের এই পোস্টটা আমি তৈরি করেছি ঠিক সেই অভাবটা পূরণ করার জন্য।এই সুযোগগুলো কাজে লাগিয়ে কীভাবে আপনিও গ্রীসে আপনার দীর্ঘমেয়াদী স্বপ্ন পূরণ করতে পারেন, তা নিয়েই আজ আমি বিস্তারিত আলোচনা করব। নিচে আমরা গ্রীসে দীর্ঘ সময় থাকার সব বিস্তারিত তথ্য, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, এবং গুরুত্বপূর্ণ সব টিপস সম্পর্কে জানবো, যা আপনাকে সফলভাবে গ্রীসে থিতু হতে সাহায্য করবে। চলুন, বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক!

প্রশ্ন ১: গ্রীসে স্থায়ীভাবে থাকার জন্য প্রধান ভিসার বিকল্পগুলো কী কী এবং কোনটা আমার জন্য ভালো হবে?
উত্তর ১: গ্রীসে দীর্ঘমেয়াদী বা স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য বর্তমানে দুটো খুব জনপ্রিয় এবং কার্যকর পথ আছে: একটি হলো ডিজিটাল নোম্যাড ভিসা (Digital Nomad Visa) এবং অন্যটি গোল্ডেন ভিসা (Golden Visa)। দুটো ভিসার ধরন সম্পূর্ণ আলাদা, তাই আপনার পরিস্থিতি বুঝে সঠিকটা বেছে নিতে হবে।ডিজিটাল নোম্যাড ভিসা: যারা বিদেশ থেকে রিমোটলি কাজ করেন, অর্থাৎ যাদের কাজ করার জন্য কোনো নির্দিষ্ট অফিসে যেতে হয় না, তাদের জন্য এই ভিসাটা এককথায় দারুণ। আমি নিজে দেখেছি, অনেক বাংলাদেশি তরুণ-তরুণী এখন ইউরোপের সুন্দর একটা দেশে বসে তাদের দেশের বা অন্য কোনো দেশের কোম্পানির জন্য কাজ করতে পারছেন। গ্রীসের ডিজিটাল নোম্যাড ভিসার মাধ্যমে আপনি এক বছরের জন্য সেখানে থাকতে পারবেন, যা পরে দুই বছরের রেসিডেন্স পারমিটে নবায়ন করা যায়। এই ভিসার জন্য সাধারণত আপনাকে দেখাতে হবে যে গ্রীসের বাইরের কোনো উৎস থেকে আপনার মাসিক কমপক্ষে ৩,৫০০ ইউরো আয় আছে (সাথে পরিবারের সদস্য থাকলে এই অঙ্কটা বাড়ে)। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, প্রথম ছয় মাস বা ১৮৩ দিন যদি আপনি গ্রীসের করদাতা বাসিন্দা না হন, তাহলে আপনার আয়ের ওপর গ্রীসে ট্যাক্স দিতে হবে না। অর্থাৎ, আপনি একটি সুন্দর পরিবেশে সাশ্রয়ী জীবনযাপন উপভোগ করতে পারবেন, আর Schengen Area-র অন্যান্য দেশেও ভিসা-মুক্ত ভ্রমণ করতে পারবেন।গোল্ডেন ভিসা: যদি আপনার হাতে একটা ভালো অঙ্কের বিনিয়োগের সুযোগ থাকে, তাহলে গোল্ডেন ভিসা আপনার জন্য আরও স্থায়ী একটা সমাধান হতে পারে। এই ভিসার মূল শর্ত হলো গ্রীসে রিয়েল এস্টেট বা অন্য কোনো সম্পত্তিতে কমপক্ষে ২৫০,০০০ ইউরো বিনিয়োগ করা। এটা কেবল আপনার জন্য নয়, আপনার পুরো পরিবারের জন্য (স্বামী/স্ত্রী, সন্তান) গ্রীসে বসবাসের অনুমতি দেয়। গোল্ডেন ভিসার সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো, এর জন্য গ্রীসে কোনো ন্যূনতম সময় থাকার বাধ্যবাধকতা নেই। অর্থাৎ, আপনি বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে বিনিয়োগ করে গ্রীসের রেসিডেন্সি পেতে পারেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী গ্রীসে এসে থাকতে পারেন। আমি অনেককে দেখেছি, যারা ইউরোপে নিজেদের একটা স্থায়ী ঠিকানা তৈরি করতে চান, তারা এই গোল্ডেন ভিসাকেই সেরা উপায় হিসেবে বেছে নেন। বিনিয়োগের পরিমাণ ক্ষেত্রবিশেষে পরিবর্তিত হতে পারে, তাই আবেদনের আগে সর্বশেষ নিয়মগুলো ভালোভাবে জেনে নেওয়া খুব জরুরি।আপনার জন্য কোনটা ভালো হবে, তা নির্ভর করছে আপনার কাজের ধরন এবং আর্থিক সামর্থ্যের ওপর। যদি আপনি ফ্রিল্যান্সার বা রিমোট কর্মী হন এবং ইউরোপে তুলনামূলক কম খরচে থাকার সুযোগ চান, ডিজিটাল নোম্যাড ভিসা আপনার জন্য আদর্শ। আর যদি আপনার বিনিয়োগ করার সামর্থ্য থাকে এবং ইউরোপে একটি স্থায়ী ঠিকানা ও পরিবারের জন্য সুযোগ-সুবিধা চান, তাহলে গোল্ডেন ভিসা আপনার জন্য সঠিক পথ।প্রশ্ন ২: গ্রীসে জীবনযাত্রার খরচ কেমন এবং সেখানে কাজের সুযোগ কেমন পাবো বলে আশা করতে পারি?
উত্তর ২: গ্রীসে জীবনযাত্রার খরচ নিয়ে আমার নিজস্ব অভিজ্ঞতা এবং অনেকের সাথে কথা বলে যা বুঝেছি, তা হলো, ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় গ্রীস বেশ সাশ্রয়ী। বিশেষ করে যদি আপনি গ্রীসের বড় শহর এথেন্সের বাইরে ছোট শহর বা গ্রামগুলোতে থাকতে চান, তাহলে খরচ অনেকটাই কম হয়। যেমন, ইউরোপের অনেক বড় শহরের তুলনায় এথেন্স ডিজিটাল নোম্যাডদের জন্য অন্যতম সস্তা শহর। বাসা ভাড়া, খাবার, যাতায়াত – এই সব কিছুতেই আপনি একটা স্বস্তির জায়গায় থাকবেন। যদিও ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় গ্রীসে জীবনযাত্রার ব্যয় তুলনামূলক বেশি হতে পারে, তবে আমাদের বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এখানকার আয় ভালো হওয়ায় তা ম্যানেজ করা সহজ।কাজের সুযোগের কথা বলতে গেলে, গ্রীসের অর্থনীতি মূলত সেবা খাত, বিশেষ করে পর্যটন শিল্পের উপর অনেক নির্ভরশীল। তাই যদি আপনার হোটেল, রেস্টুরেন্ট, বা ট্যুর গাইডিং-এর মতো কাজে অভিজ্ঞতা থাকে, তাহলে সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। আমি নিজে দেখেছি, পর্যটন মৌসুমে (সাধারণত এপ্রিল থেকে অক্টোবর) গ্রীসের দ্বীপগুলোতে এবং মূল ভূখণ্ডের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে প্রচুর কর্মী প্রয়োজন হয়।এছাড়াও, কৃষি খাতেও গ্রীসে কাজের একটা বড় সুযোগ আছে। গ্রীসের প্রচুর কৃষি জমি থাকায় কৃষি কাজের জন্য শ্রমিকদের চাহিদা প্রায় সারা বছরই থাকে। সরকার বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ থেকে কর্মী নিচ্ছে, যেখানে কৃষি ও মৎস্য খাতে মৌসুমি কাজের অনুমতি দেওয়া হয়। কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে (যেমন – কৃষি, পশুপালন) কাজের ভিসা পাওয়া যেতে পারে। বাংলাদেশ সরকার ও গ্রীস সরকারের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার ফলে প্রতি বছর হাজার হাজার বাংলাদেশি বিভিন্ন খাতে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন। এর মধ্যে মৌসুমি কর্মী হিসেবে কৃষি খাতে নিয়োগও হয়েছে।আমি সবসময় বলি, গ্রীসে কাজের সন্ধানে যাওয়ার আগে একটু হোমওয়ার্ক করে যাওয়া ভালো। ভাষা শেখাটা একটা বাড়তি সুবিধা দেয়, যদিও অনেক পর্যটন এলাকায় ইংরেজিতে কাজ চলে। আপনার যদি নির্দিষ্ট কোনো দক্ষতা থাকে (যেমন, ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার, ড্রাইভিং, নির্মাণ কাজ), তাহলে সেই ক্ষেত্রেও কাজের সুযোগ খুঁজে নিতে পারেন। এখানকার সর্বনিম্ন বেতন প্রায় ৭৬৫ ইউরো, যা বাংলাদেশী টাকায় প্রায় এক লক্ষ টাকার সমান। তাই কাজের সুযোগ আর খরচের হিসাব করলে গ্রীস সত্যিই একটা ভালো গন্তব্য হতে পারে।প্রশ্ন ৩: গ্রীসে রেসিডেন্স পারমিট বা বসবাসের অনুমতি নবায়ন করার প্রক্রিয়াটা কেমন এবং এর জন্য কী কী প্রস্তুতি নেওয়া উচিত?
উত্তর ৩: গ্রীসে একবার রেসিডেন্স পারমিট পেয়ে গেলেই যে সব ঝামেলা শেষ, তা কিন্তু একদমই নয়। এটি সময়মতো নবায়ন করাটা খুব জরুরি। আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, এই প্রক্রিয়াটা যতটা জটিল মনে হয়, যদি আপনি আগে থেকে প্রস্তুতি নেন, তাহলে বেশ সহজই হয়ে যায়। সাধারণত, ডিজিটাল নোম্যাড ভিসা প্রথম এক বছরের জন্য দেওয়া হয় এবং তারপর এটি দুই বছরের রেসিডেন্স পারমিটে নবায়ন করা যায়। গোল্ডেন ভিসার ক্ষেত্রেও ৫ বছরের জন্য রেসিডেন্স পারমিট দেওয়া হয়, যা পরে নবায়নযোগ্য।নবায়ন প্রক্রিয়ার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাথায় রাখা দরকার:সময়সীমা: মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত দুই-তিন মাস আগে থেকেই নবায়নের প্রক্রিয়া শুরু করা উচিত। তাড়াহুড়ো করলে অনেক সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জোগাড় করতে সমস্যা হতে পারে।প্রয়োজনীয় কাগজপত্র: আপনার বর্তমান রেসিডেন্স পারমিট, বৈধ পাসপোর্ট, গ্রীসে থাকার প্রমাণপত্র (যেমন বাসার চুক্তি বা ঠিকানা), পর্যাপ্ত আর্থিক সংস্থানের প্রমাণ, হেলথ ইন্স্যুরেন্স এবং যদি কাজের ভিসায় থাকেন, তাহলে কাজের চুক্তির আপডেট কপি বা আয়ের প্রমাণপত্র লাগবে। অনেক সময় পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেটও চাওয়া হতে পারে। আমি ব্যক্তিগতভাবে দেখেছি, সব কাগজপত্র ইংরেজিতে বা গ্রীক ভাষায় অনুবাদ করা এবং নোটারাইজড করে রাখাটা কতটা জরুরি।আবেদন পদ্ধতি: রেসিডেন্স পারমিট নবায়নের আবেদন সাধারণত স্থানীয় এলিয়েনস অ্যান্ড ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্টের অফিসে (Aliens and Immigration Department) বা বিকেন্দ্রীভূত প্রশাসনের রেসিডেন্স পারমিট অফিসে জমা দিতে হয়। কিছু ক্ষেত্রে অনলাইনেও আবেদন করার সুযোগ থাকতে পারে, তাই গ্রীসের অভিবাসন মন্ত্রকের ওয়েবসাইটে গিয়ে সর্বশেষ তথ্য জেনে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।সবচেয়ে বড় টিপস হলো, আপনার সব গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টসের ফটোকপি এবং ডিজিটাল কপি সবসময় হাতের কাছে রাখবেন। আমি দেখেছি, সামান্য একটা কাগজের অভাবে পুরো প্রক্রিয়াটা আটকে যেতে পারে। এছাড়াও, যদি আপনি কোনো এজেন্ট বা আইনজীবীর সাহায্য নেন, তাহলে নিশ্চিত হয়ে নেবেন যে তারা বিশ্বস্ত এবং তাদের কাছে আপনার সব তথ্যের গোপনীয়তা সুরক্ষিত থাকবে। বাংলাদেশ ও গ্রীসের মধ্যে সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী অবৈধভাবে থাকা অনেক বাংলাদেশিকে পাঁচ বছরের জন্য বৈধতা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যেখানে নিবন্ধনের মাধ্যমে রেসিডেন্স কার্ড পাওয়ার সুযোগ থাকছে। এই সুযোগটা আমাদের ভাইবোনদের জন্য একটা বিশাল স্বস্তি নিয়ে এসেছে। তাই ধৈর্য ধরে সঠিক নিয়ম মেনে চললে গ্রীসে আপনার দীর্ঘমেয়াদী বসবাসের স্বপ্ন অবশ্যই পূরণ হবে।

📚 তথ্যসূত্র

Advertisement